শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে তেলও বেরিয়ে আসছে, আরও ১৫ দিন জ্বলবে আগুন-বাপেক্স ইনানী সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু ইনানীতে ২ দিন ধরে জ্বলছে নলকূপ থেকে ওঠা গ্যাসের আগুন: ২২ কিলোমিটার এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সাংবাদিক আবদুল আজিজের পিতার প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী আজ ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় নির্গমন গ্যাসের আগুন: আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ছেলের হাতে বাবা খুন ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে রূপ নিয়েছে গভীর নিম্নচাপটি সেন্টমার্টিন ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খোলা প্রতিপক্ষ ফুটবলারের ওপর রাগ কমছে না নেইমারের, পাল্টা বক্তব্য নেস্তরের রামুর রশিদ নগর ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার: চুরির ৯৬ লাখ টাকা ভাগ নেওয়ার অভিযোগ

“ওসির হাতে-পায়ে ধরেও জিডি করতে পারেননি”

বিশেষ প্রতিবেদক:
টেকনাফে বেড়াতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন তিন বন্ধু ইমরান, রুবেল ও মোহাম্মদ ইউছুপ। অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকার জন্য পরিবারের কাছে একাধিকবার মোবাইল ফোনে নির্যাতনের কথা বলার পরও মুক্তিপণ পায়নি অপহরণকারিরা। একারণে এক সাথে হত্যা করা হয় তিন বন্ধুকে। কিন্তু, এঘটনায় দুষছে টেকনাফ থানার ওসি আব্দুল হালিমকে।

নিহত ইমরানের মা হামিদা বেগম পুলিশের গাফেলতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘টেকনাফ থানার ওসি আব্দুল হালিমের হাতে পায়ে ধরেও আমার স্বামী একটি জিডি করতে পারেনি। মুক্তিপণের টাকার জন্য চাপ দেয়া অপহরণকােিদর একাধিক মোবাইল নাম্বার পুলিশকে দিলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ওই সময় পুলিশ চাইলে তিনটি তাজা প্রাণ রক্ষা করতে পারত। কিন্তু, ওসি আব্দুল হালিম তা করেননি।’

নিহত ইমরানের মা হামিদা বেগম আরও বলেন, ‘আমার ছেলে সহ তিনজন অপহরণের পর বিষয়টি জিডির করতে প্রথমে কক্সবাজার সদর থানায় গেলে কক্সবাজার থানার পুলিশ টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে পাঠান। পরে টেকনাফ থানায় গেলে ওসি আব্দুল হালিম জিডি নিতে অনিহা প্রকাশ করেন। এভাবে গত সপ্তাহ দুয়েক ধরে পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘূরে কোন সুরহা পাননি। পরে আমার ছেলে সহ তিনজনকে জীবন দিতে হল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে। হামিদা বলেন, ‘আমার ছেলে মত আর কাউকে যাতে এভাবে মরতে না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘অপহরণের বিষয় নিয়ে কেউ থানায় আসেনি। পুলিশ যখন বিষয়টি জানতে পেরেছে, তখন থেকে অপহরণকারিদের ধরতে তৎপর হয়ে উঠে পুলিশ। পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ‘অপহরণের ঘটনায় গত ১২ মে জড়িত থাকার অভিযোগে রোহিঙ্গা শফি আলম ও তার ভাগ্নে আরাফাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি মতে, টেকনাফ দমদমিয়া পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন জানিয়েছেন, অপহরণের পর তিনবন্ধু হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার টেকনাফ হাবিবছড়া গহীন পাহাড় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ছৈয়দ হোসন ওরফে সোনালী ডাকাত (৩৫) ও এমরুল (৩০)।

লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন বলেন, তিন বন্ধু টেকনাফ যাওয়অর পথে গাড়ি থামিয়ে তাদের অপহরণ করা হয়। পরে তাদের পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দাবিকৃত মুক্তিপণ দিতে না পারায় তাদের হত্যা করে
অপহরণকারিরা।

র‌্যাবের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমনের ভাষ্যমতে, গত ২৮ এপ্রিল টেকনাফ সদরে কোহিনূর নামে এক মেয়েকে দেখার টোপ দিয়ে রুবেলসহ তার দুই বন্ধুকে ডেকে আনে রোহিঙ্গা শফি আলম। তিন বন্ধু অপহরণের বিষয়টি নজরে আসার পর কাজ শুরু করে পুলিশ। শফির দেওয়া তথ্যমতে তার ভাগ্নে আরাফাতকে টেকনাফের মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে অপহৃত রুবেলের ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করা হয়। পরে র‌্যাব তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী টেকনাফ
দমদমিয়া এলাকার গহীণ পাহাড় থেকে তিন বন্ধুর মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। মরদেহগুলো ছিল অর্ধগলিত। গ্রেপ্তার দুইজন প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন, তাঁরা এই কাজে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। বিত্তশালীদের টার্গেট করে এসব অপহরণ করতেন তাঁরা। দিনের বেলায় এই চক্রের সদস্যরা লোকালয়ে এসে সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশ ধরে থাকতেন। রাতের বেলায় পাহাড়ে গিয়ে তাদের নির্যাতন করতো। যারা টাকা দিতে ব্যর্থ হয় তাদের মাটির মধ্যে পুঁতে রাখা হতো।

গত ২৮ এপ্রিল টেকনাফে বেড়াতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন কক্সবাজারের চৌফলদন্ডী উত্তরপাড়ার রুবেল, ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ সওদাগর পাড়া মোহাম্মদ ইউছুপ ও কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া এলাকার ইমরান। তাঁরা তিনজনই বন্ধু। পরে ২৪ মে টেকনাফের দমদমিয়া পাহাড়ি এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION